Saturday, 29 January 2011

দেশজুড়ে বিক্ষোভ অবরোধ ভাংচুর



ডেস্ক রিপোর্ট

শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতনের ক্ষোভে গোটা দেশের বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন গতকাল। বাজারের এই অবস্থাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কারসাজি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুরসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। আমাদের অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের পদত্যাগ দাবি
চট্টগ্রাম : শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির কারণে গতকাল ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিলেন চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারীরা। তারা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে দফায় দফায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান তারা। দুই দফায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন ছাড়িয়ে খাতুনগঞ্জ, জামালখান, প্রেসক্লাব এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
অস্বাভাবিক দরপতনের কারণে এসইসির নির্দেশে আধঘণ্টা লেনদেন চলার পর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেন। বেলা ১২টা নাগাদ কয়েক হাজার বিনিয়োগকারী সিএসই’র সামনে জড়ো হন। তারা প্রথমে আগ্রাবাদ উপহার সিনেমা হলের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। পরে স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে শেখ মুজিব রোড অবরোধ করে মিছিল করতে থাকেন তারা। আগে থেকেই সিএসই ভবনের সামনে মোতায়েন ছিল পুলিশ। পরে তাদের সঙ্গে আরও শতাধিক পুলিশ সদস্য যোগ দেয়। পুলিশ একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে হটিয়ে দেয়। এ সময় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বিনিয়োগকারীরা সিএসই ভবন, উপহার সিনেমা হলের সামনে এবং বাদামতলী এলাকায় অবস্থান নিয়ে মিছিল করেত থাকেন। এ সময় এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ডবলমুরিং জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার তানভীর জানান, বিক্ষোভকারীদের অনুরোধ করলে তারা রাস্তা ছেড়ে দেয়। বেলা ২টার দিকে বিনিয়োগকারীরা আবারও রাস্তা বন্ধ করে মিছিল করে। কয়েক মিনিট পরই পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। সিএসই ভবনের আশপাশের এলাকায় বেলা ১২টা থেকে টানা ৩ ঘণ্টা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল হয়। বেলা ১টার দিকে নগরীর অন্যতম বৃহত্ বাণিজ্য কেন্দ্র খাতুনগঞ্জ থেকে কয়েকশ’ বিনিয়োগকারী মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন। তারা অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের পদত্যাগ এবং ইউনিপে টু ইউসহ এলএমএল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানান।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা বিকালে এক সভায় ইনভেস্টরস ফোরাম অব চিটাগং নামক একটি সংগঠন গঠন করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গত ১৫ দিন ধরে শেয়ারবাজারে যে ধস চলছে তা তদন্তে একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে অগ্নিসংযোগ, লাঠিচার্জে আহত ৫
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের হাজার হাজার বিনিয়োগকারী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সকালে থেকেই শহরে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধের চেষ্টা, ব্রোকারেজ হাউজ ভাংচুর, রাস্তায় অগ্নিসংযোগ করেন তারা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের লাঠিচার্জে পাঁচজন আহত হন সারা শহরে আতঙ্ক দেখা যায় এবং একাংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ
সিলেট : দেশের অন্য স্থানের মতো সিলেটের ব্রোকারেজ হাউজগুলো সাড়ে ১১টার পর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর বিনিয়োগকারীরা আগের দিনের মতো রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখা অফিস লক্ষ্য করে কিছু ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিনিয়োগকারী ফোরামের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে নগরের চৌহাট্টা এলাকার আরএন টাওয়ার থেকে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তালতলা এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট শাখায় একটি মিছিল থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। তবে এতে কোনো ক্ষতি হয়নি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আবরোধ, আটক ১
নরসিংদী : নরসিংদীর ৪টি ব্রোকারেজ হাউজের ৩ শতাধিক সাধারণ বিনিয়োগকারী গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এতে প্রায় ৩ ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে। রাস্তার উভয় দিকে প্রায় ৫ কিঃমিঃ যানজট সৃষ্টি হয়। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মো. খবিরুল ইসলাম নামে এক বিনিয়োগকারীকে গ্রেফতার করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: কেন্দ্রীয়ভাবে শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয়ার পর বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা শহরের রাস্তায় নেমে আসেন। দুপুরে কয়েকশ’ বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় অস্বাভাবিকভাবে পতনের ঘটনায় অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেয়া হয়। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহীতে এসইসি সভাপতির পদত্যাগ দাবি
রাজশাহী শেয়ার বাজারে অব্যাহত দরপতন ও ঢাকায় বিনিয়োগকারীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সমাবেশে করেছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল দুপুরে বিনিয়োগকারীরা নগরীর সাহেববাজার এলাকার আইসিবি কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে আইসিবি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষুব্ধ সহস্রাধিক বিনিয়োগকারী সমাবেশে মিলিত হন। তারা দরপতনের জন্য আবারও এসইসি (সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন) সভাপতিকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করেন। এ সময় অর্থমন্ত্রীরও পদত্যাগ দাবি করেন তারা। তাদের অভিযোগ, দেশের পুঁজিবাজারে গত এক মাস ধরে দরপতন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে সিন্ডিকেট তাদের কারসাজি নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ভূমিকাকেও দায়ী করা হয়। তারা বলেন, এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতিবাচক ভূমিকার কারণে সিন্ডিকেট ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
বগুড়ায় গভর্নর, অর্থমন্ত্রী ও ডিএসই প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি
দ্বিতীয় দিনের মতো গতকালও বগুড়া শহরে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। সকাল ১১টার দিকে শহরের বড়গোলার সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। আইসিবির সামনে সমাবেশে বক্তারা এসইসি, ডিএসই প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তারা। তারা আরও বলেন, অব্যাহত দরপতন রোধ না হলে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবে।
রংপুরে আন্দোলনের হুমকি
রংপুর : বিনিয়োগকারীরা রংপুর নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি চক্রের কারণে শেয়ারবাজার বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এসব ভেলকিবাজি বন্ধ করার আহ্বান জানান। এসব বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা
।

Saturday, 22 January 2011

টঙ্গীতে আ’লীগ ও পুলিশি বাধায় ওয়াজ মাহফিল পণ্ড : মুসল্লিদের বিক্ষোভ মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী

গত রাতে টঙ্গী পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোদাফা হাজী কালু মিয়া আদর্শ মহিলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ওয়াজ মাহফিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও থানা পুলিশের বাধার কারণে পণ্ড হয়ে যায়।
মাহফিলের আয়োজক ও উপস্থিত শ্রোতারা জানান, হাজী কালু মিয়া আদর্শ মহিলা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ওয়াজ মাহফিল হাজী আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। স্থানীয় বক্তারা বয়ান করার একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টায় মাহফিলের প্রধান বক্তা মাওলানা তারেক মনোয়ার মাহফিলস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা মাওলানা তারেক মনোয়ারকে মঞ্চে উঠতে বাধা দেয়। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী ও মুসল্লিদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় পুলিশ তারেক মনোয়ারকে মাহফিলস্থল ত্যাগে বাধ্য করে এবং তাকে রাজধানীর উত্তরা আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে মাহফিলে আগত শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি তাত্ক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মুসল্লিরা মিছিল নিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুুল আলীম মোল্লার বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় আবদুল আলীমের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। টঙ্গী থানার ওসি গাজী রুহুল ইমামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাহফিলের প্রধান বক্তা তারেক মনোয়ারের ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে আমরা তার পরিবর্তে অন্য বক্তা দিয়ে মাহফিল চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু মাহফিল কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় মাহফিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আ’লীগ সরকারের দু’বছর : বোরকাবিরোধী তত্পরতায় ক্ষুব্ধ ধর্মপ্রাণ মানুষ

রকিবুল হক

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দুই বছরে ইসলামবিরোধী বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের অন্যতম ছিল বোরকাবিরোধী তত্পরতা। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অফিসে মেয়েদের বোরকা পরতে বাধ্য করা যাবে না মর্মে আদালতের রায় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র জারির ঘটনায় দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোরকাধারীদের নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের বিষয়টিও ছিল ব্যাপক সমালোচিত। সরকারের এসব অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করে। বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা সরকার ও আদালতের এসব আদেশকে সরাসরি কোরআনবিরোধী আখ্যায়িত করে কোনো মুসলমান এটা মানবে না বলে ঘোষণা দেন। মহিলা মাদ্রাসাসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব নিয়মানুযায়ী এখনও বোরকা পরা বাধ্যতামূলক রয়েছে বলে তারা জানান। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের এ দেশে বোরকাবিরোধী আইনের যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত বছরের ২২ আগস্ট বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দীন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশনের এক আদেশে বলা হয়, ‘দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অফিসে মহিলা ও মেয়েদের বোরকা পরতে বাধ্য করা যাবে না’। একই সঙ্গে মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকে বিরত না রাখতেও নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অফিসে মহিলা ও মেয়েদের বোরকা পরতে বাধ্য করা এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্টের এ বেঞ্চ। সরকারের শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, সংস্কৃতি সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব এবং নাটোরের রানী ভবানী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হককে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এছাড়া কলেজের অধ্যক্ষকে আদালতে হাজির এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়।
একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বোরকা না পরলে আসতে মানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা আদালতের দৃষ্টিতে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক এবং অ্যাডভোকেট কেএম হাফিজুল আলম। তারা বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদের আওতায় পোশাক নির্বাচন ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয় হিসেবে সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার। কাউকে এ নিয়ে বাধ্য মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু ছেলেরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করবে এটা বেআইনি। মেয়েদেরও খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়ার অধিকার রয়েছে। শুধু ছেলেদের এসবের সুযোগ দিয়ে মেয়েদের বঞ্চিত করা বৈষম্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ বোরকা বাধ্যতামূলক করা যাবে না মর্মে আদেশ দেন। অবশ্য পত্রিকার ওই রিপোর্টে প্রকৃত ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে ছাপানো হয়েছিল বলে কলেজ সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন। এদিকে এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই রানী ভবানী কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রহিমা বেগম আমার দেশকে বলেন, গত বছর ২৩ আগস্ট মোজাম্মেল হককে অধ্যক্ষের পদ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে ওএসডি করা হয়। পরবর্তী সময়ে অধিদফতরের পক্ষ থেকে তদন্ত এবং তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
হাইকোর্টের বোরকাবিরোধী এ রায়ের তিনদিনের মাথায় ২৫ আগস্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য না করা প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়, সরকারি-বেসরকারি কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত ছাত্রীদের ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং তাদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধা দেয়া হচ্ছে মর্মে সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে— যা সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ছাত্রীদের সুশিক্ষা ও মেধা বিকাশের জন্য ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধা দেয়া কোনোক্রমেই কাম্য নয়। এমতাবস্থায় সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানবাধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেয়া হলো। পরিপত্রে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের বোরকা বা ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা যাবে না; ছাত্রীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধা দেয়া যাবে না; বোরকা না পরার কারণে কোনো ছাত্রীকে নির্যাতন, হয়রানি বা তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না; বোরকা বা ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা এবং ছাত্রীদের খেলাধুলা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধা দেয়া অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান/ব্যবস্থাপনা কমিটি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বর্ণিত বিষয়গুলো প্রতিপালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন; এবং বর্ণিত বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দফতর/অধিদফতর/শিক্ষা বোর্ড তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে ২ মার্চ বোরকা না পরার কারণে কাউকে অযথা হয়রানি না করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট বিভাগ। একটি জাতীয় দৈনিকে রংপুরে বোরকা না পরা নারীদের আটকের ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। জাতীয় দৈনিকটিতে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, রংপুরের চিড়িয়াখানা ও সুরভী উদ্যানে বোরকা ছাড়া চলাফেরা করায় ১৯ যুবক-যুবতীকে আটক করে ডিবি পুলিশ। প্রকাশিত সংবাদে আরও বলা হয়, ডিবি পুলিশের দাবি হচ্ছে— ইসলামপরিপন্থী ও ধর্মীয় আইনবিরোধী কাজ করা এবং পর্দানশীন অবস্থায় চলাচল না করার কারণে তাদের আটক করা হয়। প্রকাশিত এ সংবাদটিকে একজন আইনজীবী আদালতের দৃষ্টিতে আনলে বোরকা না পরার কারণে কাউকে হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশ ইন্সপেক্টরকে তলব করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় বলেও জানা গেছে।
এদিকে বোরকা বিষয়ে আদালতের নির্দেশ এবং সরকারের পরিপত্রের পাশাপাশি বোরকাধারী ছাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের বিষয়টিও ছিল ব্যাপক সমালোচিত। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর ইডেন এবং বদরুন্নেছা কলেজে বোরকাধারী ছাত্রীদের হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ইডেন কলেজে বোরকা পরা ছাত্রীদের ধরে বোরকা খুলে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলেও তল্লাশির নামে পর্দানশীন ও নামাজি ছাত্রীদের হয়রানির ঘটনা ঘটে। এসব প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের রুম থেকে ইসলামী বই-পুস্তককে জিহাদি বই বলে তা জব্দ করে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রশাসনের সহায়তায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সারাদেশে বোরকাধারী ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাজামা-পাঞ্জাবি ও বোরকা পরে আসতে নিষেধ করেন এক শিক্ষক। এছাড়া মহাজোট সরকারের সময় পিরোজপুরে বোরকা পরা শিক্ষকসহ তিন শিক্ষার্থীকে পুলিশ আটক ও নির্যাতন করলে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এসব কর্মকাণ্ডে বর্তমান সরকারকে ইসলামবিরোধী হিসেবেও আখ্যায়িত করেন সংশ্লিষ্টরা।
বোরকার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রায় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র জারিসহ বিভিন্ন তত্পরতাকে সরকারের ইসলাম ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী বলেন, পর্দা ইসলামের ফরজ বিধান। কাজেই এ ফরজ বিধানের বিরুদ্ধে কেউ রায় দিলে তা কেউ মানতে পারে না। এটা সরাসরি কোরআন-হাদিসের বিপরীত রায়। এ দেশের কোনো মুসলমান এ রায় মানবে না। এসব আইন কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, এ সরকার ভাবছে গায়ের জোরে এসব আইন কার্যকর করবে; কিন্তু তা পারবে না। আইয়ুব খান কোরআনে হাত দিয়ে যেভাবে ধ্বংস হয়েছে, বর্তমান আওয়ামী সরকারও সেভাবে ধ্বংস হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম বোরকাবিরোধী হাইকোর্টের রায়কে পর্দা উচ্ছেদ করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করে বলেন, এ সরকারের টার্গেট হলো— বিভিন্ন দেশে যেভাবে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এ দেশেও সেই আইন করা। সরকারের পরিপত্র ও আদালতের রায় তারই ধারাবাহিকতা। অথচ পর্দা করা ফরজ বিধান। তাই আদালতের রায় ও সরকারের পরিপত্র এ ফরজ বিধানের খেলাপ। আদালত ‘অমুসলিমদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা যাবে না’— এ রায় দিতে পারত মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে তো ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক আছে। তাহলে বোরকাকেও ইউনিফর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করতে আপত্তি কোথায়? এ রায় শুধু ইসলামকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর জন্য দেয়া হয়েছে। এটা মুসলমানরা কোনোদিন মেনে নিতে পারে না, মেনে নেবে না। এটা মানলে কেউ মুসলমান থাকবে না।

Saturday, 8 January 2011

নগরজুড়ে তীব্র গ্যাস সঙ্কট



কাজী জেবেল

গ্যাস সঙ্কটে জ্বলছে না রান্নার চুলা। ঢাকা, সাভার, টঙ্গী, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ অনেক এলাকায় বেশিরভাগ সময় পাইপে গ্যাস না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কিছু এলাকায় গ্যাস থাকলেও লাইনে চাপ কম থাকায় মিটমিটিয়ে জ্বলছে চুলা। ফলে ঠিকমতো রান্না করতে না পারায় রাজধানী ও আশপাশ এলাকার মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এছাড়া পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় শিল্প-কারখানা ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। কমে গেছে উত্পাদন। অনেক শিল্প-কারখানায় দিনে কাজ কমিয়ে রাতে কাজ বাড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ার কারণে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন সংযোগ দেয়া বন্ধ করা ও সিএনজি স্টেশনে রেশনিং পদ্ধতি চালু করার পরও গ্যাসের ঘাটতি কমাতে না পারায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, গ্যাস সঙ্কটের কারণে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন কমছে, তেমনি দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া গত ৪ জানুয়ারি এক সেমিনারে বিদ্যুত্-গ্যাস সঙ্কটের কারণে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন।
এদিকে আশার কোন বাণী শোনাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে উত্পাদন হচ্ছে ১৯৬ থেকে ১৯৭ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি ৫৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস। আগামী দুই বছরেও এ সমস্যার সমাধানের কোনো সম্ভাবনা নেই। গ্যাসের দাবিতে তিতাসের বিভিন্ন অভিযোগ কেন্দ্রে প্রতিদিন অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ছে। এদিকে গ্যাস সঙ্কটকে পুঁজি করে তরলিকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বোতলজাত এলপিজি গ্যাসেরও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এদিকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ জনগণ। গতকাল মিরপুর, মুগদাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গ্যাসের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। যে কোনো সময় তা জনবিস্ফোরণে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
মিরপুর এলাকার কাজীপাড়ার বাসিন্দা গৃহিণী জান্নাতুল ফেরদৌস গ্যাস সঙ্কটে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, শীত আসার পর থেকে ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। এরপর গ্যাস এলেও রাত ১০টা পর্যন্ত লাইনে চাপ থাকে না। এতে মিটিমিটি করে চুলা জ্বলে, যা দিয়ে রান্না করা যায় না। তবে ১০টার পর গ্যাসের চাপ তুলনামূলকভাবে বাড়ে। মগবাজারের গ্রিনওয়ে এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী তাবিয়া সুলতানা বলেন, গ্যাসের অভাবে দিনে রান্না করা যাচ্ছে না। রাত জেগে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রান্না করতে হচ্ছে। মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার এলাকায় এক মাসের বেশি সময় ধরে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সাভারের ধলপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাদাত হোসেন, রিয়ার উদ্দিনসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, গত এক থেকে দেড় মাস ধরে দিনে গ্যাস থাকে না। ফলে ওই এলাকার বাসিন্দারা গভীর রাত পর্যন্ত সারাদিনের খাবার রান্না করে রাখেন। একই অভিযোগ করেছেন পুরান ঢাকা, সূত্রাপুর, শান্তিনগর, বাসাবো, উত্তরাসহ বেশিরভাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। নারায়ণগঞ্জ ও সাভার শিল্প এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাস সঙ্কটের কারণে উত্পাদন কমে গেছে। দিনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে গ্যাসসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) খালিদ হাসান গ্যাস সঙ্কটের কথা স্বীকার করে গতকাল আমার দেশকে বলেন, প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন অর্থাত্ ২৫০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ১ হাজার ৯৬০-৯৭০ মিলিয়ন অর্থাত্ ১৯৬ থেকে ১৯৭ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি থাকছে ৫৩০ মিলিয়ন বা ৫৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস। তিনি বলেন, শীতের মৌসুমে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নাগরিকরা গ্যাস সঙ্কটে ভুগছেন। এ সময় তাপমাত্রা কম থাকায় পানিসহ শিল্প-কারখানার মেশিনারিজ সামগ্রী গরম করতে বেশি গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তাই সঙ্কট বেড়ে যায়। তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল আজিজ খান আমার দেশকে বলেন, চলতি শীত মৌসুমে গ্যাস সঙ্কটের সমাধান হবে বলে মনে হয় না। এজন্য ক্ষুদ্র কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। গ্যাসের চাপ বাড়ানোর জন্য কম্প্রেসর স্থাপন যতদিন পর্যন্ত করা না যাবে ততদিন অবস্থার উন্নতি হবে না। ২০১২ সালের শেষ নাগাদ অথবা ২০১৩ সালের প্রথমদিকে কম্প্রেসর স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ সময় পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে। দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ও আশপাশ এলাকায় তিতাসের আবাসিক সংযোগ রয়েছে ২০ লাখের কাছাকাছি। এছাড়া প্রায় ১৫ হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তিতাসের গ্যাস ব্যবহার করে। গ্যাস সঙ্কটের কারণে এসব ব্যবহারকারী বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে শিল্প-কারখানায় উত্পাদনে ধস নামছে। এ অবস্থায় রফদানীমুখী কারখানাগুলো নির্দিষ্ট সময়ে অর্ডার সরবরাহ করা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে তারা দিনের চেয়ে রাতে কারখানা চালু রাখছে। এতে শ্রমিকদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে। এছাড়া তিতাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি গ্যাস ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। কিন্তু গত এক মাসে প্রতি সিলিন্ডার এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে ২০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট দামের চেয়ে ১ হাজার টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। গতকাল ঢাকার দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। জুমার নামাজের পর স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জমায়েত হয়ে তারা এলাকায় অবিলম্বে গ্যাস সঙ্কট সমাধানের দাবি জানান। ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা আহমেদুল কবির জাকির জানান, গ্যাসের অভাবে এলাকার প্রায় ৯০টি বাড়ির ৬ হাজারের বেশি বাসিন্দা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রতি মাসে এসব বাড়ি থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা গ্যাস বিল দেয়া হচ্ছে। অথচ তারা দিনে এমনকি গভীর রাতেও গ্যাস সমস্যায় ভোগেন। গৃহিণীরা রাত জেগে ভোর রাতে রান্না করেন। এ সমস্যার প্রধান কারণ ১৯৮০ সালে স্থাপন করা একইঞ্চি পাইপলাইন। ওই সময় এলাকায় বাড়িঘর ছিল ১০-১২টি। এখন জনসংখ্যা ও বাড়ি বেড়েছে। কিন্তু লাইনের কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সমস্যা সমাধানের জন্য ২০০৯ সালে তিতাস গ্যাস টিঅ্যান্ডডি কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক বিপণন দক্ষিণ বরাবর আবেদন করেন এলাকাবাসী। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সমস্যা সমাধানে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গতকাল আয়োজিত সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে গ্যাস সঙ্কট সমাধানের দাবি জানান। দাবি আদায়ের জন্য তারা সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন আন্দোলনের ঘোষণা দেন। মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনের সবুজ বাংলা আবাসিক এলাকায়ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়
।

সোমালিয়া ও আফগানে অপহৃতদের পরিবারে উদ্বেগ : নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার নির্লিপ্ত : দেলোয়ার

স্টাফ রিপোর্টার

বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, দেশ-বিদেশে সর্বত্রই বাংলাদেশীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার নির্লিপ্ত। নতজানু কূটনীতির কারণে যেমন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ দিন দিন গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে, তেমনি সম্প্রতি সোমালিয়া ও আফগানিস্তানে অপহৃত ৩৩ বাংলাদেশীকে উদ্ধারে সরকার কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না। অপহৃতদের পরিবারসহ দেশবাসী উদ্বিগ্ন হলেও সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি গতকাল এক বিবৃতিতে অবিলম্বে অপহৃত জাহাজ ও বাংলাদেশীদের উদ্ধারে সরকারকে তত্পর হওয়ার আহ্বান জানান।
গত ৫ ডিসেম্বর সোমালীয় জলদস্যুদের হাতে ছিনতাই হওয়া বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জাহান মণিসহ জাহাজ থেকে আটককৃত ২৬ বাংলাদেশীর জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়া এবং গত ১৭ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে সামওয়ান কোম্পানির হয়ে চাকরিরত সাত বাংলাদেশীকে অপহরণ ও তাদের মধ্যে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এ বিবৃতি দেন। এই দুই আতঙ্কজনক ঘটনায় সরকারের নির্লিপ্ততা, উদাসীনতা এবং বিপন্নদের উদ্ধারে ব্যর্থতায় তিনি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এক মাস হতে চলল অথচ এমভি জাহান মণি উদ্ধারে সরকার চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। ২৫ নাবিকসহ ২৬ বাংলাদেশীর জীবন নিয়ে সরকারের হেয়ালিপনা জনমনে দারুণ ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের শৈথিল্য প্রদর্শন জলদস্যুদের হাতে আটক বাংলাদেশীদের আত্মীয়স্বজনসহ দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সরকারের দায়িত্ববোধ থাকলে এবং কার্যকর সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অপহৃত এমভি জাহান মণি ও বাংলাদেশীদের উদ্ধার সম্ভব হতো।
খোন্দকার দেলোয়ার বলেন, আফগানিস্তানে অপহৃত সাত বাংলাদেশীর মধ্যে একজন নিহত হওয়ার পরও সরকারের টনক নড়েনি। সরকারের স্থবিরতা এবং কূটনৈতিক তত্পরতার অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অপহৃত বাংলাদেশীদের আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি দেশবাসী সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষুব্ধ।
তিনি বলেন, এই দুই ঘটনায় আটক বাংলাদেশীদের উদ্ধারে অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের পরামর্শও সরকার আমলে নিচ্ছে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় দেশের ভেতরে এবং বিদেশে বাংলাদেশীদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার অমনোযোগী ও দায়িত্বহীন।
বিএনপি মহাসচিব সোমালীয় জলদস্যুদের হাতে বাংলাদেশী ছিনতাই হওয়া জাহাজ এমভি জাহান মণির ২৬ জন এবং আফগানিস্তানে অপহৃত পাঁচ বাংলাদেশীকে উদ্ধারে সরকারের গাছাড়া ভাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ‘হেকটিক’ তত্পরতা চালিয়ে অপহৃত বাংলাদেশীদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান।

Friday, 7 January 2011

জবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ৬ : ইভটিজিংয়ে ৫ ছাত্রলীগকর্মী বহিষ্কার



জবি রিপোর্টার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সফরের কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছে। আহত কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগকর্মীরা এক ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাণিজ্য অনুষদের সব বিভাগের শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ইভটিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ ছাত্রলীগকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা সফরের কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে একে অন্যের ওপর হামলা চালায়।
এতে উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হয়। আহতরা হলো শফিক, জামান, নয়ন, রাসেল, হিরণ ও সবুজ। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের এক ছাত্রীকে কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উত্ত্যক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি রিপন গ্রুপের কর্মী ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র তমাল। এ সময় হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র ও মেয়েটির বন্ধু রিফাত এর প্রতিবাদ করে। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল সকালে ক্যাম্পাসের মূল গেটের সামনে তমাল ও তার বন্ধু জামাল, কামাল, বাবুসহ ৭-৮ জন রিফাতের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা রিফাতকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রিফাতকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে বাণিজ্য অনুষদের ৪ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ছাত্রী উত্ত্যক্তকারী তমালসহ হামলায় জড়িত অন্য ছাত্রলীগকর্মীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।
এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সুপারিশের ভিত্তিতে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ৫ ছাত্রলীগকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃতরা হলো ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র তমাল ও সোহাগ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র জামাল (সপ্তম সেমিস্টার), প্রিন্স মাহমুদ (চতুর্থ সেমিস্টার) ও ফিন্যান্স বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র কামাল হোসেন। এ ঘটনা তদন্তে বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ৫ ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান
।

গ্যাস-বিদ্যুত্ সঙ্কটে শিল্পে উত্পাদন ব্যাহত : বিসিআই

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

মহাজোট সরকারের আমলে গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সঙ্কটের কারণে শিল্প উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) নবনির্বাচিত নেতারা। শ্রমমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বিসিআই নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুত্ সঙ্কটের কারণে রফতানির লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান সরকারের দুই বছরে বিদ্যুত্ ও গ্যাস সঙ্কটের তীব্রতায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উত্পাদন এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে বলে জানান বিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ ওয়াজিউল্যাহ।
তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত শিল্পনীতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংগঠন বিসিআইকে সরকারের অনুদান এবং নিজস্ব ভবনের জন্য জায়গা বরাদ্দের দাবিও জানানো হয়। দেশে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ধরে রাখা এবং রফতানি বাড়াতে বিদেশে দূতাবাসগুলো কার্যকর করার জন্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নেতারা পরামর্শ দেন। শিল্প প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে সরকারকে গ্যাস ও বিদ্যুত্ উত্পাদনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানান তারা।
নেতাদের দাবিতে বিসিআই’র সাবেক সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির জন্য কাজ করতে আন্তরিক উল্লেখ করে শ্রমমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুত্ সঙ্কট এমন বিষয়, যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার এর সমাধানে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই মধ্যে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে সরকার। তাছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে উত্পাদনে যাবে। জমি বরাদ্দের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বদরবারে আমরা আর দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমাদের বর্তমানে মাথাপিছু আয় ৭৫০ ডলার। আর ২শ’ ডলার বাড়াতে পারলে আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে পারবো। গার্মেন্ট শ্রমিক অসন্তোষের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার শ্রমিকের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে যে শ্রমিক দশ বছর ধরে কাজ করছে তার জন্য এই সর্বনিম্ন বেতন প্রযোজ্য নয়। এ ব্যাপারে গার্মেন্ট মালিকদের আন্তরিক হতে হবে।
সরকার ২০০৬ সালের শ্রম আইন রিভিউ করছে। এ ব্যাপারে শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিকদের মতামত দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। এরই মধ্যে শ্রমনীতির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দেয়া হবে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী। এ সময় শ্রম সচিব নূরুল হক ও বিসিআই নেতারা উপস্থিত ছিলেন।