Friday, 7 January 2011

জবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ৬ : ইভটিজিংয়ে ৫ ছাত্রলীগকর্মী বহিষ্কার



জবি রিপোর্টার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সফরের কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছে। আহত কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগকর্মীরা এক ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাণিজ্য অনুষদের সব বিভাগের শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ইভটিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ ছাত্রলীগকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা সফরের কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে একে অন্যের ওপর হামলা চালায়।
এতে উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হয়। আহতরা হলো শফিক, জামান, নয়ন, রাসেল, হিরণ ও সবুজ। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের এক ছাত্রীকে কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উত্ত্যক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি রিপন গ্রুপের কর্মী ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র তমাল। এ সময় হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র ও মেয়েটির বন্ধু রিফাত এর প্রতিবাদ করে। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল সকালে ক্যাম্পাসের মূল গেটের সামনে তমাল ও তার বন্ধু জামাল, কামাল, বাবুসহ ৭-৮ জন রিফাতের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা রিফাতকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রিফাতকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে বাণিজ্য অনুষদের ৪ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ছাত্রী উত্ত্যক্তকারী তমালসহ হামলায় জড়িত অন্য ছাত্রলীগকর্মীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।
এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সুপারিশের ভিত্তিতে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ৫ ছাত্রলীগকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃতরা হলো ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র তমাল ও সোহাগ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র জামাল (সপ্তম সেমিস্টার), প্রিন্স মাহমুদ (চতুর্থ সেমিস্টার) ও ফিন্যান্স বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র কামাল হোসেন। এ ঘটনা তদন্তে বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ৫ ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান

গ্যাস-বিদ্যুত্ সঙ্কটে শিল্পে উত্পাদন ব্যাহত : বিসিআই

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

মহাজোট সরকারের আমলে গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সঙ্কটের কারণে শিল্প উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) নবনির্বাচিত নেতারা। শ্রমমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বিসিআই নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুত্ সঙ্কটের কারণে রফতানির লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান সরকারের দুই বছরে বিদ্যুত্ ও গ্যাস সঙ্কটের তীব্রতায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উত্পাদন এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে বলে জানান বিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ ওয়াজিউল্যাহ।
তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত শিল্পনীতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংগঠন বিসিআইকে সরকারের অনুদান এবং নিজস্ব ভবনের জন্য জায়গা বরাদ্দের দাবিও জানানো হয়। দেশে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ধরে রাখা এবং রফতানি বাড়াতে বিদেশে দূতাবাসগুলো কার্যকর করার জন্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নেতারা পরামর্শ দেন। শিল্প প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে সরকারকে গ্যাস ও বিদ্যুত্ উত্পাদনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানান তারা।
নেতাদের দাবিতে বিসিআই’র সাবেক সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির জন্য কাজ করতে আন্তরিক উল্লেখ করে শ্রমমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুত্ সঙ্কট এমন বিষয়, যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার এর সমাধানে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই মধ্যে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে সরকার। তাছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে উত্পাদনে যাবে। জমি বরাদ্দের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বদরবারে আমরা আর দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমাদের বর্তমানে মাথাপিছু আয় ৭৫০ ডলার। আর ২শ’ ডলার বাড়াতে পারলে আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে পারবো। গার্মেন্ট শ্রমিক অসন্তোষের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার শ্রমিকের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে যে শ্রমিক দশ বছর ধরে কাজ করছে তার জন্য এই সর্বনিম্ন বেতন প্রযোজ্য নয়। এ ব্যাপারে গার্মেন্ট মালিকদের আন্তরিক হতে হবে।
সরকার ২০০৬ সালের শ্রম আইন রিভিউ করছে। এ ব্যাপারে শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিকদের মতামত দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। এরই মধ্যে শ্রমনীতির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দেয়া হবে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী। এ সময় শ্রম সচিব নূরুল হক ও বিসিআই নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আদমজী ইপিজেডে গার্মেন্ট বন্ধ করে মালিকের আত্মগোপন

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

আদমজী ইপিজেডের একটি গার্মেন্ট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের কিছু না জানিয়ে রাতের আঁধারে নোটিশ টাঙিয়ে আত্মগোপন করেছে গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ। আর এ কারণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে গার্মেন্টের শ্রমিক-কর্মচারীরা। বেপজা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ।
গতকাল হাইল্যান সুয়েটার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের শ্রমিকরা কাজ করতে গিয়ে দেখতে পায় গার্মেন্ট বন্ধের নোটিশ। এতে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গার্মেন্টটিতে সাত শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল সহকারে আদমজী ইপিজেডের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়। এ সময় শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জ-শিমরাইল সড়কে অবরোধ করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের নারায়ণগঞ্জ-শিমরাইল সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে তারা আদমজী ইপিজেড অফিসের সামনে গিয়ে জড়ো হয়। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় আদমজী ইপিজেড কর্তৃপক্ষ গার্মেন্ট মালিকপক্ষের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করে। আগামী ১০ জানুয়ারি শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা আদমজী ইপিজেড ত্যাগ করে। আদমজী ইপিজেডের কাউন্সিলর মোজাম্মেল হোসেন জানান, হাইল্যান সুয়েটার ফ্যাক্টরির কাছে আদমজী ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ২ লাখ ৫২ হাজার মার্কিন ডলার পাওনা রয়েছে। বেপজা কর্তৃপক্ষ গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষকে চাপ দিলেও মালিক বেপজার পাওনা পরিশোধ করেননি। এদিকে গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ তাদের নোটিশে উল্লেখ করে, তারা চলতি বছরে ২ লাখ ৪১ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। এমনকি ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধের মৌখিক আশ্বাসও দেয় গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ। তদুপরি বেপজা কর্তৃপক্ষ তাদের ফ্যাক্টরিকে টার্মিনেট (শেষ/বন্ধ) ঘোষণা করে। তাছাড়া বেপজা কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার ফলে গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ তাদের গার্মেন্টে কাঁচামাল প্রবেশ করাতে বা প্রস্তুতকৃত মালামাল রফতানি করতে পারেনি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। আর এ কারণে কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্টরির যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করতে বিশেষভাবে বাধ্য হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এ ব্যাপারে আদমজী ইপিজেডের জিএমসহ অন্য কর্তাব্যক্তিরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এসএম বদরুল আলম জানান, বেপজা কর্তৃপক্ষ টাকা পাওনা বিধায় হাইল্যান সোয়েটার ফ্যাক্টরির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দেয়। রাতে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ টাঙিয়ে গার্মেন্টে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
সকালে ওই নোটিশ দেখে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। পরে বেপজা কর্তৃপক্ষ ফোনে গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১০ জানুয়ারি শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়।
১০ জানুয়ারি শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করলে ফ্যাক্টরির মালামাল বিক্রি করে তাদের টাকা পরিশোধ করা হবে বলে বেপজা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে চলে যায় বলে ওসি বদরুল আলম জানায়।

বদলগাছীতে সন্ত্রাসীদের হাতে ছাত্রীর চাচা নিহত : রায়পুরার ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা : ফরিদাবাদে কলেজ ছাত্রী ছুরিকাহত




ইভটিজিংয়ের বর্বরতা প্রতিদিন নতুন রূপ পাচ্ছে। শাস্তি, জরিমানা কোনোটাই বন্ধ করতে পারছে না এ ব্যাধিকে। ঘটেই চলেছে হতাহতের ঘটনা। সোমবার ঝরে গেছে আরেকটি তাজা প্রাণ। ঘটনাটি ঘটে নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে এক কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল এলাকার এক বখাটে। ওই ছাত্রীর বাবার অভিযোগ পেয়ে থানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এক বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিলে এতে ক্ষিপ্ত হয় বখাটে পরিবারের লোকজন। সোমবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী ওই ছাত্রীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের পেটাতে থাকে। এ ঘটনায় নিহত হন ওই ছাত্রীর চাচা। ওদিকে রাজধানীর ফরিদাবাদে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে মিতা দেবী নামে এক কলেজ ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে স্থানীয় বখাটে যুবক জামিল।
এদিকে সোমবার নরসিংদীর রায়পুরায় ইভটিজারদের হাত থেকে ছেলে ও ছেলের বউকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা নিহত হওয়ার ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তবে পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় স্থানীয় জনতার মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের খবর :
বদলগাছী (নওগাঁ) : নওগাঁর বদলগাছীতে ইভটিজিংয়ের দায়ে এক বখাটের এক বছরের সাজা হওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীর পিটুনিতে নিহত হয়েছেন এক কলেজছাত্রীর চাচা। সোমবার উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।
জগন্নাথপুর গ্রামের শামসুল আলমের মেয়ে তাসনিয়া তাহরিনকে (২১) একই গ্রামের আ. সাত্তারের ছেলে ফজলে রাব্বী রিপন ওরফে ধলু (২২) কলেজে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত। গত বুধবার সকালে তাসনিয়াদের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিয়ে না দিলে মেয়েসহ বাবা-মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিষয়টি বাবা শামসুল আলম ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানালে বৃহস্পতিবার বিকালে বদলগাছী থানার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিউজ্জামান ভূঁইয়া ধলুর জবানবন্দি নিয়ে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হজার টাকা জরিমানা করেন। এতে ধলুর পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। তারা আওয়ামী লীগ নেতা ও আধাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামসুল আলমের কাছে এর বিচার চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী শামসুল আলমের বাড়িতে হামলা চালায় ও পরিবারের সদস্যদের পেটাতে থাকে। এতে তাসনিয়ার চাচা বাবুল আকতার (৪২) এবং ফুফু রেখা বানু গুরুতর আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নিলে বাবুল আকতার রাতেই মারা যান।
নরসিংদী : জেলার রায়পুরায় ইভটিজারদের হাত থেকে ছেলে ও ছেলের বউকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা খুন হওয়ার ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানায়। নিহতের ছেলে আহত রবিন ভূঞা বাদী হয়ে বখাটে সোহেল মিয়া, রাজিব মিয়া, অরুণ মৃধা, জসিম উদ্দিন মৃধা, খোরশেদ মৃধা ও বাদল মিয়াসহ আরও অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে এ মামলা করেন। তবে এফআইআরভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো জেলাব্যাপী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এদিকে গতকাল সদর হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে বেলা ২টায় লাশ নিজ বাড়িতে নেয়া হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
পরে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানাজায় শরিক হন। উপস্থিত সবাই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তবে খুনিদের ব্যাপারে এ প্রতিবেদকের কাছে কথা বলতে রাজি না হলেও উঠতি বয়সের এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, খুনিদের মদতদাতা ও এলাকার অনেক চিহ্নিত অপরাধী আমাদের আশপাশে অবস্থান করছে। কে কী বলছে তীক্ষষ্টভাবে তা তারা পর্যবেক্ষণ করছে। সে কারণে অনেকেই মুখ খুলে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে কেন আসামি গ্রেফতার করা গেল না এ ব্যাপারে থানায় যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ বসে নেই। সময় হলেই আসামি ধরা পড়বে। তবে ৩৬ ঘণ্টা পরও আবার কখন সময় হবে জানতে চাইলে এবপর্যায়ে তিনি চটে যান। উল্লেখ্য, ইভটিজারদের হাত থেকে ছেলে ও ছেলের বউকে বাঁচাতে গিয়ে সোমবার নিজ বাড়ির সামনে খুন হন বাবা রতন ভূঞা (৫০)। আহত হন নিহতের ছেলে রবিন ভূঞা।
ফরিদাবাদে কলেজছাত্রীকে
ছুরিকাঘাত বখাটে যুবকের
স্টাফ রিপোর্টার জানান, রাজধানীর ফরিদাবাদে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে জামিল আহমেদ ওরফে মিশু নামে এক বখাটে যুবক কলেজছাত্রী মিতা দেবীর (২২) মুখে ছুরিকাঘাত করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় মিতাকে পুরনো ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ফরিদাবাদে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, মিতা দেবী পুরনো ঢাকার কবি নজরুল কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। লেখাপড়ার পাশাপাশি সে বেসরকারি ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টেলিফোন অপারেটর হিসেবে চাকরি করে। গতকাল বেলা ২টার দিকে মিতা কর্মস্থল থেকে তার বাবার সঙ্গে রিকশায় ফরিদাবাদ ব্যাংক কলোনির বাসায় ফিরছিল। বখাটে মিশু ফরিদাবাদ ফজলুল হক কলেজের সামনে তাদের রিকশার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে জামিল ওই ছাত্রীর মুখে পরপর তিনবার ছুরিকাঘাত করে। এসময় ছাত্রীর বাবার চিত্কারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে বখাটে মিশু পালিয়ে যান।
গেণ্ডারিয়া থানার ওসি নুরুল মোত্তাকিন সাংবাদিকদের জানান, দেড় বছর ধরে মিশু মিতা দেবীকে প্রেম নিবেদন করে আসছিল। কিন্তু মিতা ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মিশু ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

নেপথ্যে বিদেশি এনজিও’র ভূমিকাও কাজ করেছে - বিজিএমইএ সভাপতি : পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ : বিদেশি ক্রেতারা আতঙ্কিত

সৈয়দ মিজানুর রহমান

পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেছে। ২০০৯ সালে এ খাতে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ছিল ১৯১টি, গেল বছর তা বেড়ে হয়েছে ৮৩৪টি। গেল দুই বছরে এ খাতে শ্রমিক অসন্তোষের সহস্রাধিক ঘটনা স্থানীয় উদ্যোক্তা ও বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, কারণে-অকারণে যে হারে পোশাক কারখানায় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হচ্ছে, তা দেখে মনে হয় এখন এ খাত পুরোপুরি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) গবেষণা সেল সূত্রে জানা গেছে, গত এক যুগের মধ্যে ২০১০ সালের জুনেই সবচেয়ে বেশি ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে পোশাক খাতে। এ সময়ে ৬০৪টি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা রেকর্ড করেছে বিজিএমইএ। বিজিএমইএ’র গবেষণা সেল শ্রমিক অসন্তোষের কারণ ক্ষতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রমাণ পেয়েছে—এসব ঘটনার বেশিরভাগই গুজব ছড়িয়ে ঘটানো হয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছেন কিছু শ্রমিক নেতা। তাদের উস্কানিতেই ছোটখাটো বিষয়গুলোও পোশাক শিল্পের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঝুট ব্যবসার আধিপত্য নিয়েও কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০০৬ সালে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আগেও গোটা পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সে বছর পোশাক শিল্পের ২৫৮টি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।
গত এক যুগে এতসংখ্যক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের কারণ কী—জানতে চাইলে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী আমার দেশকে বলেন, ‘গেল একটি বছর এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এ সময় যেমন স্থানীয় সমস্যা ছিল, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারেও মন্দার কারণে রফতানি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তবে এগুলোর সঙ্গে শ্রমিক অসন্তোষের কোনো সম্পর্ক নেই। শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনাগুলোর ৯০ ভাগই শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে ঘটানো হয়েছে। কিন্তু ইন্ধনদাতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।’ বিজিএমইএ সভাপতি জানান, ২০১০ সালে মজুরি বেড়েছে ৮০ শতাংশ। তবে মজুরির দাবি নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ হয়েছে মাত্র ৫৭টি কারখানায়। বাকি ৭৩১টি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের নেপথ্যে ছিল কিছু শ্রমিক নেতানেত্রী। বিদেশি এনজিওদের ভূমিকাও কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে বিজিএমইএ সভাপতি আশা করেন, শিল্প পুলিশের কার্যক্রম চালু হওয়ায় সামনে এ খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০২৫টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রায় প্রতিটি ঘটনার পর পরই সরকারের পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করেছে। তদন্ত রিপোর্টও জমা পড়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরে। তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে দেশের ২৫৮টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। এ শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে ১৩৫টি কারখানায় মজুরির জন্য এবং বাকি কারখানাগুলোয় অন্যান্য দাবিতে শ্রমিকরা কারখানায় অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।
২০০৭ সালে ২৬৬টি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হয়েছে। এর মধ্যে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ১৪২টি কারখানায় ও অন্যান্য দাবিতে ১২৪টি কারখানায় অসন্তোষ হয়েছে।
২০০৮ সালে ২২৫টি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হয়। মজুরি সংক্রান্ত কারণে অসন্তোষ হয়েছে ৭৮টি কারখানায় এবং অন্যান্য দাবিতে ১৪৭টি কারখানায়।
২০০৯ সালে ১৯১টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হয় বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১২টি, ফেবু্রয়ারিতে ১০টি, মার্চে ১৩টি, এপ্রিলে ২৩টি, মে মাসে ১৮টি, জুনে ১৮টি, জুলাইয়ে ২৫টি, আগস্টে ৩১টি, সেপ্টেম্বরে ১৮টি, অক্টোবরে ১২টি, নভেম্বরে ৮টি ও ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ৩টি শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটে বলে জানায় বিজিএমইএ। এসব ঘটনার মধ্যে মজুরি সংক্রান্ত কারণে ৮৮টি কারখানায় এবং অন্যান্য কারণে ১০৩টি কারখানায় হামলা ও ভাংচুর হয়েছে।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে পোশাক খাতে শ্রম অসন্তোষ ঘটেছে ১২টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৪টি, মার্চে ২৫টি, এপ্রিলে ৩০টি, মে মাসে ১৫টি, জুনে ৬০৪টি, জুলাইয়ে ১৬টি, আগস্টে ১২টি, সেপ্টেম্বরে ১১টি, অক্টোবরে ১২টি, নভেম্বরে ২৭টি ও ডিসেম্বর মাসে ৫৬টি শ্রম অসন্তোষের ঘটনা রেকর্ড করেছে বিজিএমইএ।
কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পোশাক খাতের সাধারণ শ্রমিকরা কারখানায় ভাংচুর ও লুটপাটে কমই জড়িত থাকে। এ ক্ষেত্রে কিছু শ্রমিক নেতার ইন্ধন বেশি দায়ী বলে মনে করেন তিনি। মোহাম্মদ হাতেম জানান, বিশ্ব মন্দার পর আমাদের অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সুতার ভয়াবহ সঙ্কট, বন্দর জটিলতা, গ্যাস ও বিদ্যুত্ সঙ্কটের কারণে এ সম্ভাবনা খুব একটা কাজে লাগানো যাবে না।

শাসকদলের মন্ত্রী-এমপিদের কর্মকাণ্ডে বিব্রত ইসি : তিনজনকে সতর্ক করে চিঠি : মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা এলাকায় গিয়ে অপরাধ করেছেন : ছহুল



কাজী জেবেল

পৌরসভা নির্বাচনী এলাকায় শাসকদলের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যদের বিতর্কিত এবং প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে বিব্রত নির্বাচন কমিশন। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশন ড. এটিএম শামসুল হুদা এ নিয়ে ময়মনসিংহে জনসম্মুখে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। তফসিল ঘোষিত পৌর এলাকায় এসব ব্যক্তিকে না যেতে কমিশন থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের জেতানোর জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ভোটারদের প্রভাবিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় সফর করছেন। তারা উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন। পাশাপাশি সরকারি দলের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এ ছাড়া সরকারি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও বিস্তর অভিযোগ পেয়েছে কমিশন। ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অনেকটা অসহায় নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের জনবল স্বল্পতা ও প্রয়োজনীয় ক্ষমতা না থাকায় ক্ষমতাধর এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না কমিশন। তবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে এ পর্যন্ত তিনজনকে সতর্ক করে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ছহুল হোসাইন আমার দেশকে বলেন, ‘কমিশনের অনুরোধ উপেক্ষা করে যেসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার ব্যক্তি নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছেন, আইন অনুযায়ী তারা অপরাধ করেছেন। তাদের মতো উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের আইন অমান্য করে এভাবে নির্বাচনী এলাকায় যাওয়া উচিত হয়নি। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আমরা দু’তিনজনকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছি। এর পরও তারা একই ধরনের কাজ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব। তবে আমরা হার্ডলাইনে যেতে চাই না। তিনি আরও বলেন, আইনে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এ সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো সংসদ সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
জানা গেছে, আইনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। পৌরসভা (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০১০-এর ৬ নম্বর ধারার ১৫-এর(ক) ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ এবং সরকারের কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার সরকারি সুবিধাভোগী কোনো ব্যক্তি, নির্বাচনপূর্ব সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর থেকে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা ভ্রমণ করছেন। এ নিয়ে কমিশনে অসংখ্য অভিযোগ এসেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন গত শনিবার ফরিদপুর যান। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সুবল সাহার পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে দলীয় কর্মী ও ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। পৌর এলাকা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, সুবল সাহা নির্বাচিত হলে ফরিদপুরে ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’র মতো একটি অত্যাধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, সুবল সাহা নির্বাচিত হলে আমার সাহায্য পাওয়া যাবে। ফরিদপুর মহাবিদ্যালয়ের কাছে পৌরসভার যে চার একর জমি আছে, সেখানে একটি অত্যাধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণ করে দেয়া হবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান গত ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর এলাকায় অবস্থান করেন। ওই পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম হবিকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় লোকদের মধ্যে ২৬০টি শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। কলতাপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামী সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এ ছাড়া শালিয়হর বধ্যভূমির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন, বিনামূল্যে চক্ষুচিকিত্সার ৭ দিনব্যাপী কার্যক্রমের উদ্বোধন, কৃতী ছাত্র সংবর্ধনা, গৌরিপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কাউট সমাবেশে যোগদান এবং স্থানীয় আওয়ামী, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাজাহান মিয়া নির্বাচন প্রভাবিত করতে গত ৮ ডিসেম্বর যান বলে কমিশনে অভিযোগ এসেছে। এতে বলা হয়েছে, পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর ছেলে তারিকুজ্জামান মনির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তিনি ১১ দিনের সফরে পটুয়াখালী যান। কিন্তু কমিশনের পক্ষ থেকে তাকে নোটিশ করা হলে তিনি একদিন অবস্থান করে ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন। অবশ্য পরে মনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। আওয়ামী লীগদলীয় হুইপ শেখ আবদুল ওহাব নির্বাচনী প্রচারণা চালানো, ডাকবাংলো ব্যবহার এবং দলীয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়াও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ভঙ্গ করেছেন বলে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান।
পৌর এলাকায় সংসদ সদস্যদের যেতে কোনো আইনি বাধা নেই। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশকিছু পৌর এলাকায় মহাজোটের সংসদ সদস্যরা নির্বাচন, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কমিশনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হকের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন তদন্তের জন্য জেলা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাকে চিঠি দেয়া হচ্ছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কালিয়া পৌরসভায় মেয়র পদে কবিরুল হকের ভাই ইকরামুল হক টুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওই এলাকায় কবিরুল হক ও তার বাহিনীর সদস্যরা বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তারা নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। পুলিশ চাকরি হারানোর ভয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হবে বলে জানা গেছে। ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইব্রাহিম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন লালমোহন পৌরসভায় উপস্থিত থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমদাদুল হক তুহিনের পক্ষে ভোট চাইছেন। ওই এলাকায় তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, পথসভার নামে জনসভা, গণসংযোগের নামে মিছিল-মিটিংসহ একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ঢালাওভাবে নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছেন না। কিন্তু সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে কোনো বাধানিষেধ না থাকায় তারা দলীয় প্রার্থীদের জেতাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনা ঘটছে এবং তাতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে

বিভিন্ন সংগঠনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ : বর্তমান সরকারের আমলেই গুপ্তহত্যার শিকার হচ্ছেন আলেমরা

স্টাফ রিপোর্টার

পুলিশ অফিসার্স কোয়ার্টার জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা ইসহাকের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সংগঠনের নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার গত দুই বছর সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ সরকারই সবচেয়ে বেশি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর আঘাত এনেছে। আর এ সরকারের আমলেই আলেম-উলামারাও গুপ্তহত্যার শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশ যুব ন্যাপ : যুব ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেছেন, বর্তমান সরকারের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে ব্যর্থতার ষোলকলা পূরণের মাধ্যমে। তারা সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর। এ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটেছে যে, এখন আলেম-উলামারাও গুপ্তহত্যার শিকার হচ্ছেন। তিনি রমনা থানা কমপ্লেক্সে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা ইসহাকের গুপ্তহত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ যুব ন্যাপ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সমন্বয়কারী বাহাদুর শামীম আহমেদ পিন্টু। বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত বারুরী, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা প্রমুখ।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন : খেলাফত আন্দোলনের প্রধান আমির মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ, মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জাফরুল্লাহ খান এক যুক্ত বিবৃতিতে হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাককে অপহরণ করে হাত-পায়ে শিকল বেঁধে হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে দেশের জনগণের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই।
খেলাফত মজলিস : খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের এক যুক্ত বিবৃতিতে ইমাম হাফেজ মাওলানা ইসহাকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, আলেম-ওলামারাও আজ গুপ্তহত্যার শিকার হচ্ছেন। সরকার দেশের মানুষের জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদ : পরিষদের নেতারা হাফেজ মাওলানা ইসহাকের হত্যাকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলার উদাসীনতার জন্য উলামা মাশায়েখ পরিষদ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। অনতিবিলম্বে হত্যাকারীকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।