Friday, 7 January 2011

ইভটিজিং : রায়পুরায় ছেলে ও ছেলের বউকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা খুন : ফরিদপুরে ছাত্রীর আত্মহত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট

দেশব্যাপী ইভটিজিংয়ের ভয়াবহতা বাড়ছেই। ইভটিজিং প্রতিরোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না সামাজিক এ ব্যাধি। গতকাল ও শনিবার রাতে পৃথক ইভটিজিংয়ের ঘটনায় ঝরে গেল আরও দুটি তাজা প্রাণ। তবে একটি বখাটের পিটুনিতে মৃত্যু অপরটি আত্মহত্যার মাধ্যমে বখাটের প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্তের কারণে দুর্বিষহ হয়ে ওঠা জীবন থেকে মুক্তির। মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর রায়পুরায়। আর আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুর উপজেলায়। প্রথম খুনের ঘটনাটি ঘটে বখাটেদের হাত থেকে ছেলে ও ছেলের বউকে বাঁচাতে গিয়ে। আর দ্বিতীয়টি ঘটে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করা শেষে বখাটের কাছে শ্লীলতাহানির অপমানের কারণে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
নরসিংদী : নরসিংদীর রায়পুরায় ইভটিজারদের হাত থেকে ছেলে ও ছেলের বউকে বাঁচাতে গিয়ে খুন হয়েছেন এক ব্যবসায়ী। তার নাম রতন ভূঞা (৫০)। বাড়ি উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামে। তার নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
নিহত রতন ভূঞার ছেলে রবিনের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার আদীয়াবাদ কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্রী। গতকাল সকালে সোনিয়া তার সহপাঠী শান্তা, হনুফা, মিতু ও সেলিনাসহ হাসনাবাদ বাজারে অলিউল্লাহ স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল। রবিনের দোকানের সামনে পৌঁছলে আগে থেকে ওঁত্ পেতে থাকা বখাটে যুবক সোহেল, জসিম উদ্দিন ও রাজিব তাদের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তাদের যৌন হয়রানির চেষ্টা চালায়।
এ সময় স্ত্রীকে চোখের সামনে উত্ত্যক্ত করতে দেখে রবিন প্রতিবাদ করলে বখাটেরা তাকে পেটাতে শুরু করে। তাদের চিত্কারে আশপাশের লোকজনসহ বাবা রতন ভূঞা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি ছেলেকে বাঁচাতে চেষ্টা চালান। এ সময় বখাটেরা তাকেও এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। ভয়ে আশপাশের লোকজন দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যায়। ইভটিজারদের বেধড়ক পিটুনিতে একপর্যায়ে রতন ভূঞা মাটিতে লুটে পড়েন। পরে বখাটেরা মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী রতন ভূঞাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা নেয়ার পথে বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় জেলাব্যাপী তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। রায়পুরা থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর মোমিন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে টেলিফোনে বলেন, অপরাধীদের আটক করতে পুরো এলাকায় তল্লাশি চলছে। নিহতের ছেলে রবিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পাশের আদীয়াবাদ গ্রামেই বর্তমান সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজুর গ্রামের বাড়ি। আমার বিশ্বাস তিনি পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফরিদপুর : মধুখালীর চাপা রানীর রক্তের দাগ শুকানোর আগেই বখাটের কারণে পালিয়ে থেকেও মুক্তি মিলল না ফরিদপুরের স্কুলছাত্রী মুক্তি রানী মণ্ডলের (১৩)। উত্ত্যক্তের যন্ত্রণা সইতে না পেরে শনিবার রাতে আত্মহত্যা করে সে। মামার বাড়ি পালিয়ে থেকেও নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি মেধাবী ছাত্রী মুক্তি। সে গাজনা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। দুই বছর ধরে বখাটে সুব্রত দাস তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে। মুক্তির মৃত্যুর পর উত্ত্যক্তকারী সুব্রত ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুদিয়া গ্রামের শ্রীকান্ত মণ্ডলের মেয়ে মুক্তি রানীকে দুই বছর ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল একই গ্রামের সুব্রত দাস। মুক্তিদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের নিয়ে সে তাকে বিরক্ত করত। এলাকার প্রভাশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে তাকে কেউ কিছু বলতে পারত না। তারপরও স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে নালিশ দিয়েছিলেন মুক্তির বাবা; কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। সম্প্রতি বখাটে সুব্রত তার উত্ত্যক্ততার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে তাকে তার মামার বাড়ি মধুখালী উপজেলার ব্যাসদিয়া গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়; কিন্তু সুব্রত সেখানে গিয়েও তাকে বিরক্ত করা শুরু করে। এরপর তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। শুক্রবার রাতে সে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে আগে থেকে ওঁত্ পেতে থাকা সুব্রত তাকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। মুক্তির চিত্কারে বাড়ির লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় বখাটে সুব্রত দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরদিন মুক্তিকে আবার তার মামাবাড়িতে পাঠানো হয়; কিন্তু শনিবার রাতে অপমান সহ্য করতে না পেরে সে বিষপান করে। বিষয়টি টের পেয়ে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল মুক্তির লাশ দাহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে কোতোয়ালি থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী।
ইভটিজিং : ৬ মাসে দেশে খুন হয়েছেন ৩০ জন, আহত একশ’
বরিশাল অফিস জানায়, গত ৬ মাসে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে ও প্রতিবাদ করতে গিয়ে সারাদেশে ৩০ জন খুন হয়েছেন। গুরুতর আহত ও পঙ্গু হয়েছেন শতাধিক। ‘ইভটিজিং রোধে আমরা সচেতন’— এ স্লোগান নিয়ে বরিশালে অনলাইন সংবাদ সংস্থা বাংলা নিউজ ডটকম আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এ তথ্য জানান। বক্তারা আরও বলেন, ইভটিজিংয়ের জন্য শুধু ছেলেমেয়েরাই দায়ী নয়, ইভটিজিং বন্ধে বাবা-মা, অভিভাবককেও সচেতন হতে হবে। বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক আকার ধারণ করা ইভটিজিং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই রোধ করা সম্ভব।
গতকাল সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনীকুমার টাউন হল চত্বরে দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশের সম্পাদক নূরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হানিফ, মানবাধিকার জোটের জেলা সভাপতি ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান, চেম্বার অব কমার্সের জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু, প্রেস ক্লাবের সাবেক সম্পাদক মুরাদ আহম্মেদ, ডা. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
এবার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ইভটিজিংয়ের কবলে
বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, এবার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীও ইভটিজিংয়ের কবলে পড়েছে। শুধু তাই নয়, বখাটে ইভটিজার ওই ছাত্রীর বসতবাড়িতেও নিয়মিত ঢিল ছুড়ে মারছে। বিয়ানীবাজার পৌর শহরের নয়াগ্রামে এ ধরনের ঘটনায় থানায় এজাহার দেয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তবে এজাহারটি এখন পর্যন্ত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে জানান বাদী। একই গ্রামের আবদুল মালিকের ছেলে ইভটিজার হোসেন আহমদ (২২) পলাতক রয়েছে। স্থানীয় পৌর কমিশনারও ইভটিজার হোসেন আহমদকে নিবৃত্ত করতে পারেননি।
নয়াগ্রামের আবদুল হেকিমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন নুরু মিয়া। তার চতুর্থ শ্রেণীপড়ুয়া মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করে হোসেন। এমনকি সে তাদের বসতঘরে ঢিল ছুড়ে মারে। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সে নিয়মিত নুরু মিয়ার বাসায় ঢিল ছোড়ে। ভাড়াটিয়াকে নিরাপত্তা দিতে মালিক আবদুল হেকিম এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে বখাটে হোসেন তাকেও গালাগাল শুরু করে। বিষয়টি আবদুল হেকিম পৌরসভার প্রশাসক তফজ্জুল হোসেনকে অবহিত করেন। কিন্তু তিনিও হোসেনের অপকর্ম বন্ধ করতে পারেননি। উপায়ান্তর না দেখে আবদুল হেকিম বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় এজাহার দায়ের করেন। থানার এএসআই আরিফ অভিযোগ পেয়ে তাত্ক্ষণিক তদন্তে গিয়ে এর সত্যতা পান। তিনি জানান, পৌর কমিশনারও হোসেনকে ইভটিজিং থেকে নিবৃত্ত করতে পারেননি। সে বর্তমানে পলাতক রয়েছে

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আশুলিয়ায় এক গার্মেন্টে শ্রমিক বিক্ষোভ : দুই কর্মকর্তা আহত

সাভার প্রতিনিধি

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গতকাল সকালে সাভারের আশুলিয়ায় জামগড়া এলাকার ইউনিভার্স নিটিং নামের একটি গার্মেন্টে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওই কারখানার দুই কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করেছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সকালে ওই কারখানার দুই হাজার শ্রমিক কর্মস্থলে যোগ দিয়ে উত্পাদন শুরু করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের চলমান কাজের মজুরি প্রতিপিস ৪১ টাকা নির্ধারণ করে।
এ খবর শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তিনটি বিভাগের প্রায় ২ হাজার শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় ওই কারখানার ইনচার্জ মোহাম্মদ হোসেন ও ইলেকট্রিক ইনচার্জ আব্বাস উদ্দিন শ্রমিকদের কাজে যোগদানের জন্য বললে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মারপিট করে। তাদের আহত অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালিক-শ্রমিকদের আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়। পরে আলোচনায় বিকাল ৪টার দিকে পিসরেট ৩ টাকা বাড়িয়ে ৪৪ টাকা নির্ধারণ করা হলে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে বাড়ি চলে যায়।
ওই কারখানার একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ চলমান কাজের জন্য প্রতিপিস ৪৫ টাকা নির্ধারণের কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা জানিয়েছে, ওই কাজের জন্য ৪১ টাকা নির্ধারণ করা হবে। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। আশুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক বিল্লাল হোসেন জানান, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ওই কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে কারখানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনায় বিষয়টি সমঝোতা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।

ইসলামী আন্দোলনের সভা : ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে সরকার পতনের আন্দোলন

স্টাফ রিপোর্টার

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার শাহজালালসহ (রহ.) অসংখ্য পীর-আউলিয়ার এদেশ থেকে ইসলামকে নির্মূল করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০১০ সালে সরকার দেশ থেকে ইসলামকে নির্বাসনে পাঠানোর সব আয়োজন চূড়ান্ত করেছে। ১৯৯৬-২০০১-এর মতো আবারও দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানানোর কাজ করেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ইসলামের ওপর আঘাত আসে, মসজিদ-মাদ্রাসা-ইসলামী পুস্তক অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ হয়, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসার শিক্ষকদের খুনের ঘটনা, ইভটিজিংসহ নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পায়, দুর্নীতিবাজরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।
গতকাল রাজধানীর পুরানা পল্টন দলের মহানগর কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরী নির্বাহী কমিটির নিয়মিত মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর সহ-সভাপতি মোহাম্মাদ আলতাফ হোসেন, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আবু সাঈদ সিদ্দিকী, আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মোহাম্মাদ ফজলুল হক মৃধা, শহিদুল ইসলাম কবির, এইচএম সাইফুল ইসলাম, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মুহাম্মাদ আবদুল আউয়াল, হাবিবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ মানিক মিয়া, মোস্তফা কামাল, মুহাম্মাদ নুরুজ্জামান সরকার, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন আরও বলেন, বর্তমান সরকার নতুন শিক্ষানীতি অনুমোদনের মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার ফরজ বিধানকে ঐচ্ছিক করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইসলামী শিক্ষা বিতাড়িত করার আয়োজন সম্পন্ন করেছে। সরকার আল্লাহর হুকুম পর্দাকে ঐচ্ছিক করে ইভটিজিংকে উস্কে দিচ্ছে, সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়ে মুসলিম দেশের সংবিধানকে কলঙ্কিত করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণে মার্কিন তরুণ-তরুণীদের অশ্লীল উদর নৃত্যের আয়োজন করে রাষ্ট্রীয় একমাত্র ইসলামী প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত করেছে। শাহরুখ খানকে দেশে এনে অপসংস্কৃতিকে উস্কে দিচ্ছে এবং ইভটিজিং ও ব্যভিচারকে জাতীয়করণ করেছে। তিনি বলেন, সরকার এসব ইসলাম ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিহার না করলে দেশপ্রেমিক জনগণ ‘জাগো মুসলমান-বাঁচাও ঈমান, বাঁচাও দেশ’ স্লোগান দিয়ে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। সভায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নগরজুড়ে অসহনীয় যানজট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রমনা থানা মসজিদের ইমাম খুনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া শীতার্ত মানুষের সহায়তায় একটি শীতবস্ত্র বিতরণ সেল গঠন করে এতে শীতবস্ত্র বা মুক্তহস্তে অর্থ দান করতে নগরের সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

দু’বছরে ইসলামের ওপর বেশি আঘাত করেছে সরকার : মুফতি আমিনী

স্টাফ রিপোর্টার

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী বলেছেন, বিগত ২ বছর ছিল বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ হওয়ার সময়। তারা সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত অবনতি হয়েছে যে, এখন সাধারণ মানুষ দূরের কথা, দেশের শ্রদ্ধাভাজন আলেম-ওলামাও গুপ্তহত্যার শিকার হচ্ছেন। রমনা থানা কমপ্লেক্স মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাকের নিখোঁজ হওয়া এবং পরে মিরপুর থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনা একটি অশনি সংকেত বহন করছে। তিনি অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং এই ইমাম হত্যাকাণ্ডে যথার্থ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে ইসলামের বিরুদ্ধে এমন জঘন্যতম অনাচার হয়েছে, অতীতে যা কল্পনাও করা যায়নি। সরকারি পর্যায়ে একমাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ইমামদের ডেকে এনে তাদের সামনে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করা হয়েছে। যে ডিজির নির্দেশে এই জঘন্যতম ঘটনাটি ঘটেছে এখনও সে স্বপদে বহাল রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হাস্যরত অবস্থায় পত্র-পত্রিকায় তাকে দেখা যাচ্ছে। বিদেশি নর্তকীদের আমদানি করে আর্মি স্টেডিয়ামে অশ্লীলতা প্রদর্শন করা হয়েছে। আবার শোনা যাচ্ছে আগামী মার্চে নাকি বিশ্ববেহায়া সাকিরাকে আমদানি করা হবে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলছি, আগামীতে বাংলার মাটিতে এই ধরনের অশ্লীল কনসার্ট ও নগ্নতার প্রদর্শনী যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, এই আওয়ামী সরকার আর কিছুদিন ক্ষমতায় থাকলে দেশে ইসলাম থাকবে না, দেশের স্বাধীনতাও বিক্রি হয়ে যাবে।
গতকাল বাদ আসর লালবাগস্থ কার্যালয়ে ইসলামী ঐক্যজোট মজলিসে শূরার সভায় সভাপতির বক্তব্যে মুফতি আমিনী এসব কথা বলেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি তৈয়্যেব, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আবুল কাশেম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল, মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা জসিম উদ্দীন, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা আহমদ আলী, মাওলানা অধ্যাপক এহতেশাম সরওয়ার, অধ্যাপক আবদুল করীম, মাওলানা শওকত আমীন, মাওলানা ফারুক আহমদ প্রমুখ।
সভায় জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ ও সরকারের ইসলামবিরোধী ভূমিকার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ করা হয়।

নয়া দিগন্তের গোলটেবিলে বক্তারা : নতুন বছরে ধর্মকে কলঙ্কের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হবে

স্টাফ রিপোর্টার

নতুন বছরে গণতন্ত্রের সঠিক প্রয়োগ ঘটুক। প্রতিহিংসার ধারা থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে উদয় হোক শুভবুদ্ধি। সুশাসন ও জননিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাসহ দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত হোক জাতীয় ঐকমত্য।
গতকাল নিজস্ব সম্মেলন কক্ষে দৈনিক নয়া দিগন্ত আয়োজিত ‘২০১১ : কেমন বাংলাদেশ চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, আইনজ্ঞ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই মতামত তুলে ধরেন। তারা আরও বলেন, নতুন বছরে ধর্মহীনতা বাড়বে। ধর্মকে একটি কলঙ্কের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হবে।
নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সচিব আসাফ্উদ্দৌলাহ্, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাংবাদিক কলামিস্ট শফিক রেহমান, কলামিস্ট ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার, সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক ড. পিয়াস করীম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আসমা আব্বাসী, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ডা. আবদুল বায়েস ভূঁইয়া এবং এফবিসিসিআই পরিচালক ও বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক।
অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, নতুন বছরে গণতন্ত্রের সঠিক প্রয়োগ ঘটুক, ব্যক্তির বদলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। কারণ এসবই একসূত্রে গাঁথা। আর এজন্য যে নীতিই প্রণীত হবে, তা হতে হবে সুস্পষ্ট, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, নতুন বছরে প্রতিহিংসার আবহাওয়া থেকে মুক্ত হয়ে ক্ষমতা প্রয়োগকারীদের মধ্যে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। ব্যক্তিস্বার্থ বাদ দিয়ে জাতীয় স্বার্থে ক্ষমতাসীনরা মনোযোগ দিক, এটাই সবার প্রত্যাশা।
আসাফ্উদ্দৌলাহ্ বলেন, ২০১১ সালেও আমাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। র্যাব-পুলিশ হবে আরও নৃশংস, রাজনীতিবিদরা হবে অভদ্র। নতুন বছরে ধর্মহীনতা বাড়বে। ধর্মকে একটি কলঙ্কের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সংস্কৃতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে আজ অনেকেই হিন্দি বোঝে। এই বিজাতীয় সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে কেবল রক্ষণাত্মক কৌশল নিলেই হবে না, আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।
আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দাবি-দাওয়া পূরণে সরকার ও বিরোধী দলে ঐক্য স্থাপন করতে হবে।
শফিক রেহমান বলেন, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু তার নোবেল প্রাইজ নিয়ে দেশের সব মিডিয়া সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর ইন্ধনে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, এটি সবচেয়ে বড় বিস্ময়। মুসা ইব্রাহীম দেশের আসল বিস্ময় নয়।
তিনি বলেন, যে কোনোভাবেই হোক এ দেশের মিডিয়ায় বর্তমানে সরকারের চাপ আছে।
ফরহাদ মজহার বলেন, নতুন বছরে আমি ভালো কিছুর প্রত্যাশা করতে পারছি না। কারণ আমরা একটি অরক্ষিত দেশে বাস করছি। বিডিআরের ঘটনা এবং পিস মিশনের কারণে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর বিজাতীয়করণ ঘটেছে।

ইভটিজারকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ : নেত্রকোনায় শরীরে আগুন দিয়ে ছাত্রীর আত্মহত্যা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

ইভটিজিংয়ের অপমান সইতে না পেরে অবশেষে নিজ শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় এসএসসি পরীক্ষার্থী হাফসা আক্তার দিপু ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে গতকাল দুপুর ২টায় মৃত্যুবরণ করেছে।
জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার বাকরপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের কন্যা বানিয়াজান সিটি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী হাফসা আক্তার দিপু স্কুলে এবং কোচিংয়ে যাওয়া-আসার পথে মাসুম নামে এক বখাটে তাকে উত্ত্যক্ত করত। গত ২১ ডিসেম্বর দুপুরে বখাটে মাসুম স্কুল থেকে ফেরার পথে দিপুকে টানাহেঁচড়া করে পরিত্যক্ত এক বন্যা আশ্রয় শিবিরে নিয়ে শ্লীলতাহানি করে। এ অপমান সইতে না পেরে দিপু গত ২২ ডিসেম্বর সকালে নিজ শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহননের চেষ্টা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওই দিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গতকাল দুপুরে সে মারা যায়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এ ব্যাপারে অগ্নিদগ্ধ ছাত্রী দিপুর পিতা দরিদ্র কৃষক দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ইভটিজার মাসুমকে আসামি করে গত ২৫ ডিসেম্বর আটপাড়া থানায় মামলা দায়ের করলেও পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার
করতে পারেনি। উল্লেখ্য, মাসুম ছাত্রলীগের একজন ক্যাডার বলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলে হাফসার বাবার অভিযোগ।

চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের মহাসম্মেলন : সরকার ইসলামকে রাজনীতি থেকে বিদায় দিতে চাচ্ছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের দুই দিনব্যাপী ইসলামী মহাসম্মেলনের শেষদিনে সভাপতির ভাষণে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শফী বলেছেন, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে এ দেশকে ইরাক ও আফগানিস্তানের পরিণতি ভোগ করানোর এক গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যে শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করেছে তাতে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত হয়েছে। প্রণীত শিক্ষানীতিতে আলেম সমাজের দেয়া কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, ওলামা, পীর মাশায়েখ ও মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে মিডিয়া সন্ত্রাস চলছে। আহমদ শফী সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারও ওপর জুলুম করবেন না। আলেম ওলামাদের সঙ্গে বেয়ারদবি আল্লাহ সহ্য করবেন না। তিনি শুক্রবার নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ ময়দানে একথা বলেন।
প্রধান অতিথির ভাষণে মুফতি ফজলুল হক আমিনী বলেন, বর্তমানে সরকার দেশের রাজনীতি থেকে ইসলামকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে। যারা দ্বীন ঈমানের হেফাজতের কথা বলছে তাদের নির্মমভাবে দমন করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। জেল-জুলুম ও ফাঁসির ভয় দেখানো হচ্ছে। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আলেম সমাজ ক্ষান্ত হবে না।
চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, দেশে যে হারে ইসলামবিরোধী কার্যক্রম চলছে, তাতে মনে হয় প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ একটি ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আমরা কোরআন হাদিস ও ধর্ম নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। ধর্মহীন শিক্ষানীতি মুসলিম দেশে চলতে পারে না।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন বলেন, সন্ত্রাস, বোমাবাজি ও জঙ্গী তত্পরতার সঙ্গে আলেম সমাজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার দূরতম সম্পর্কও নেই। কোরআনের শিক্ষায় সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয়দানের কোনো সুযোগ নেই।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইছহাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহাদ্দিস সৈয়দ আরশাদ মাদানী, পাকিস্তানের আল্লামা তানভীরুল হক থানভী, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগর, মুফতি মাওলানা তাফাজ্জুল হক, মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী প্রমুখ।
মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা সলিমুল্লাহ, মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী, মাওলানা মুসা বিন ইজহান প্রমুখ।